এবার ৫০টি ভারত-বাংলাদেশ এ্যডুট্রেইনমেন্ট সেন্টার করবে আইসিটি বিভাগ
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এবার দেশজুড়ে ৫০টি বাংলাদেশ-ভারত এ্যডুট্রেইনমেন্ট সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ। যেখানে থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান কার্যক্রম এবং মুভি দেখার থিয়েটার। দিনে চলবে স্কুল ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং রাতে দেখানো হবে মুভি।
শিক্ষাকার্যক্রমকে আনন্দদায়ক করতে এ কাজে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি টাকা দেবে ভারত সরকার। আর বাংলাদেশ বিনিয়োগ করবে দেড়শো কোটি টাকা।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও এ আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। পারস্পরিক মৈত্রীর ভিত্তেতেই এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বলেই অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী।
সাইবার সুরক্ষায় উভয় দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়েও উঠে আসে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। জানানো হয়, এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের খড়গপুরের আইআইটি -তে বাংলাদেশের ৩২ হাজার পেশাদারকে দেয়ার প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা।
অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতিতেই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল টিমের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড সনদ হস্তান্তর করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছ ১২ জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শুরুর কার্যাদেশ পত্র, বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট) নামীয় আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৬টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাই-টেক পার্ক এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন এবং ভারত ও বাংলাদেশের ৫০টি স্টার্ট আপগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায় ধারণা বিনিময় কার্যক্রম শুরুর নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড বিনিময়।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক এ এন এম শফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ জহুরুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল হক বাংলাদেশের পক্ষে এই দলিল বিনিময় করেন। অপরদিকে ভারতের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূতের দুই সচিব প্রকল্পগুলোর ঋণচুক্তি ও অনুদানের অধীনে হাইটেক পার্ক ও বিডিএসইটি স্থাপনের জন্য চুক্তিপত্র গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক আরো জানান, বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট) নামীয় আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৬টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাই-টেক পার্ক এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। এখান থেকে আগামী দুই বছরে ২৪০০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জেলা পর্যায়ে আইটি/ হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার তরুণ-তরুণীকে আইটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য স্থাপনাসমূহের মধ্যে রয়েছে ১২টি জেলায় ৭ তলা (১০৫,০০০ বর্গফুট) স্টিল স্ট্রাকচার মাল্টিটেনেন্ট ভবন নির্মাণ; ১২টি জেলায় ৩ তলা (২১,০০০ বর্গফুট) ক্যান্টিন ও স্টিল স্ট্রাকচার এমপি থিয়েটার ভবন; ৩টি জেলায় ৩ তলা (১৮,০০০ বর্গফুট) আর সিসি স্ট্রাকচার ডরমিটরি ভবন এবং ৬টি জেলায় আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
চুক্তি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ জানান, এখন পর্যন্ত হাই-টেক পার্কসমূহে ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ১৪৮টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস/কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ৩৬০০০ জন। আইসিটি খাতে প্রায় ২২০০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।